বুধবার , মে ১৮ ২০২২

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগ নেতা পরিবারসহ হামলার শিকার!!!

গত ২৩ এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগ অন্তর্গত ২৬ নং ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাফিউজ্জামান নিশাত পরিবারসহ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়। এই নির্মম হামলার প্রতিবাদে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তীব্র নিন্দা জানায় এবং নিশাদের পক্ষে সুবিচার কামনা করে।

হামলার ব্যাপারে রাফিউজ্জামান নিশাত আজকের জার্নালকে যে বিবৃতি লিখে পাঠিয়েছেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো –

“ছোট বেলা(১১/১২ বছর) থেকেই সব রোজা করি আলহামদুলিল্লাহ।কবে শেষ রোজা ভেঙেছিলাম মনে নেই!কিন্তু গত ২৩/০৪/২০২২ ইং তারিখ হতে একটি রোজাও করতে পারছিনা!মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা,৬ ঘন্টা পর পর এন্টিবায়োটিক ঔষধ,শরীর অনেক দূর্বল!এবার আর মনে হয় না কোন রোজা করতে পারব!১ তারিখ মাথার সেলাই কাটবে,১ দিন পর পর ড্রেসিং করতে হয়,আর ড্রেসিং এর সময় প্রচন্ড ব্যাথায় জীবনটা বের হয়ে আসে!আল্লাহই জানেন সেলাই কাটার দিন কি অবস্থা হবে আমার!এমন অসুস্থ অবস্থায় দিন রাত পালিয়ে বেড়াচ্ছি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে!কারণ আমরা যে ভয়টাই পাচ্ছিলাম শুরু থেকে যে শেরপুর ৩ আসনের লোকাল এমপির এপিএস আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিবে এবং শ্রীবর্দী থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করবে এটাই সত্যি হয়েছে!

হামলার শিকার নিশাদের পিতা


আমাদের নামে এটেম্প টু মাডারের মিথ্যা মামলা হয়েছে!আমি ২নং আসামী!আমার বাবা ১নং,আমার বড়ভাই ৩নং,আমার মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জ্যাঠা,পূর্ব পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগ নেতা,বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দানের জন্য ১৯৬২-১৯৭০ বহুবার জেলে গিয়েছিল এবং ১৯৭৫ পরবর্তীতেও বিভিন্ন সময় জেল জরিমানা মামলা হামলার শিকার জ্যাঠার একমাত্র ছেলে ট্যাকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষক আমার জ্যাঠাত ভাইকে ৪ নং,আমার সব থেকে বড় জ্যাঠার ছোট ছেলে যিনি একজন গর্বিত কৃষক তাকে ৫নং,আমার বাবার একমাত্র জীবিত বড়ভাই আমার ৪ নং জ্যাঠা মাদ্রাসার শিক্ষক উনাকে ৬নং আসামী করা হয়েছে!অথচ ৪,৫,৬ নং আসামী ঘটনা স্থলেই উপস্থিত ছিলেন না!অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হননি অথচ এটেম্প টু মাডারের মিথ্যা মামলার পলাতক আসামী!আর ১,২,৩ নং আসামী মানে আমার বাবা,আমি ও আমার নিরস্ত্র ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে উল্টো আমাদের নামে শ্রীবর্দী থানায় এটেম্প টু মাডারের মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে!আমরা মামলা করেছি কোর্টে ২৫ তারিখ মহামান্য আদালত আমাদের মামলার এফআইআর দেননি বা আমরা পিবিআই এ তদন্তভার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু আমাদের আবেদন খারিজ করে আবারও সেই লোকাল শ্রীবর্দী থানায় তদন্তভার দিয়েছেন।আমরা মহামান্য আদালত কে বলেছিলাম লোকাল থানা সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করবে না তাও আমাদের মামলা লোকাল থানাকেই দেওয়া হয়।যেই লোকাল থানা এমপির এপিএস এর কথায় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা নেয় সেখানে আমরা কেমনে ন্যায় বিচার পাবো!ওসি সাহেব বিগত ছয় মাস থেকে সব কিছু জানেন যে এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটার সাথে কোন লেভেলের অন্যায় অবিচার করা হচ্ছে!তাও তিনি এমপির এপিএস এর ভয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন!শুধু ওসি সাহেব নন!ডিসি স্যার বর্তমানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন(ইলেকশন না হওয়ায়)।ডিসি স্যারও প্রায় ৩ মাস থেকে সব কিছু সম্পর্কে অবগত আছেন।কারণ আমি নিজে আমার জ্যাঠাতো ভাই-বোনকে(মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের) নিয়ে শেরপুর জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় এর সাথে দেখা করি,সব সমস্যার কথা বলি।মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের সব কথা শোনেন দুঃখ প্রকাশ করেন এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন তার বরাবর এবং তিনি বিষয় টা দেখবেন এই আশ্বাস দেন।

এই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি ৮নং খড়িয়া কাজির চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছেও(মোট ২৭ টি দপ্তরে) পৌঁছাই এবং সকলের সাথে দেখা করি ও সাহায্য চাই।কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করে নি!কেউ কেউ সাহায্য করতে চেয়েছিল কিন্তু মাননীয় এমপি মহোদয়ের এপিএস শুনে আর কেউ সাহায্য করে নি!আবার কোন কোন দপ্তরে অপমানিত হয়েছি!আবার অনেকে ভালো পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু সরাসরি সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন!আবার অনেকে বলেছেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও যেহেতু সাহায্য করেননি তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই শুধু একমাত্র তোমাদের পরিবারকে সাহায্য করতে পারবেন ন্যায় বিচার করতে পারবেন।এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বলেন এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিয়ে।এলাকায় গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলাম কিন্তু জাতির বিবেক লোকাল সাংবাদিক রা যখন শোনেন এমপি মহোদয়ের এপিএস এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করব তখন আর কেউ আসতে চায় না!২/১ জন আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খরচ বাবদ টাকা নিয়েও পরে আর আসেননি ফোনও ধরেননি!এগুলো ২ মাস আগের ঘটনা বর্ণনা করলাম।

হামলার শিকার নিশাদের ভাই


কোথাও কোন সাহায্য না পেয়ে ঈদে বাড়ি গিয়ে উল্টো জান নেওয়া হামলার শিকার হলাম এবং অতঃপর ন্যায় বিচার পাওয়া তো দূরে থাক উল্টো এই অসুস্থ অবস্থায় আমরা সবাই পলাতক!বাড়িতে শুধু ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মহিলারা একা থাকেন!সব সময় আতঙ্কিত থাকেন এই বুঝি লোকাল শ্রীবর্দী থানা পুলিশ এসে বুঝি হয়রানি করবে!অথবা লোকাল শেরপুর ৩ আসনের মাননীয় এমপি মহোদয়ের এপিএস এর সন্ত্রাসীরা বুঝি পুরুষ শূন্য বাড়িতে এসে হামলা চালাবে!ঈদের পর ধান কাটামারি লাগবে!পুরুষ শূন্য বাড়ির মহিলারা কেমনে কাটামারি করবে!আর এমপির এপিএস তো আগেই হুমকি দিছে যে আমাদের কেউ একটা ধানও ঘরে নিয়ে আসতে পারবো না!এখন তো আরও বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ নেই উনাদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে গেল।এলাকার সাধারণ মানুষও এমপির এপিএস এর উপর অতিষ্ঠ কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু করতে পারে না!মামলা হামলার ভয়ে সত্য স্বাক্ষী দিতে পর্যন্ত ভয় পায়!আর ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক!কারণ আমরা উচ্চ শিক্ষিত বংশের লোক,আমি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করলাম,আমাদের ভাই বোনরা অধিকাংশই সরকারি বেসরকারি চাকুরীজীবি,আল্লাহর রহমতে আমাদের টাকা পয়সা জমিজমার অভাব নেই আলহামদুলিল্লাহ,আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।এতকিছুর পরও আমাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে এমপির এপিএস!তাহলে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ,অশিক্ষিত সহজ সরল মানুষ,কৃষকদের কি অবস্থা হবে!তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা ওদের বিরুদ্ধে!প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক!
এখন শুনতেছি এমপি মহোদয়ের এপিএস ১লক্ষ টাকা ও ডার্টি পলিটিকাল পাওয়ার ইউজ করে নাকি লোকাল শ্রীবর্দী উপজেলা হাসপাতাল থেকে ৩২৬ ধারা মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিবে!অথচ ব্লেড দিয়ে নিজেরাই কেটেছে!উপজেলা হাসপাতাল উনাদের!লোকাল থানা উনাদের! স্বাধীনতার ৫২ তম বছরে এসে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে!আগে টিভি,নিউজপেপার,ফেসবুকে এমন খবর দেখতাম আর আফসোস করতাম!আর আজ নিজেই এমন অবস্থায় পড়ে গেছি অথচ খবরও হতে পারছি না!খবর হলে ন্যায় বিচার পেতাম বাঙালির শেষ আশ্রয় স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে।আল্লাহ আমার ও আমার পরিবারের চরম পরীক্ষা নিচ্ছেন।এপ্রিল এর ২ তারিখ গ্রাডুয়েশন শেষ করলাম!ঈদের পর জবে জয়েন করার কথা!জবে জয়েন করার পর এরেন্জ ম্যারেজ করার কথা!নতুন জীবন শুরু করার কথা!আর আজ আমি এটেম্প টু মাডারের মিথ্যা মামলার ২নং পলাতক আসামী!অথচ নিরস্ত্র অবস্থায় আমাকে,বাবাকে ও আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা এটেম্প টু মাডারের চেষ্টা করে!


আজ চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে, “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় আর ভালোবাসিনা!কারণ তোমার সোনার মাঝে খাতের পরিমাণ বেশি হয়েছে গেছে!স্বর্ণের পরিমাণ অনেক কম!”
বিপক্ষের লোকজন ভয়াবহ শক্তিশালী হওয়ার পরও কিছু বড়ভাই,বন্ধু,ছোটভাই আমার ও আমার পরিবারের চরম বিপদের দিনে পাশে দড়িয়েছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।আপনাদের জন্যই এখন পর্যন্ত কথা বলতে পারছি।ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের প্রতি করা অন্যায় অবিচারের কথা বলতে পারছি।কারণ যেকোনো মুহুর্তে পুলিশ আমাকে এরেস্ট করতে পারে তখন আর আমার পরিবারের উপর হওয়া অবিচারের কথা বলতে পারব না!কোন প্রমাণ থাকবে না!অথবা লোকাল এমপির এপিএস আমাকে মেরে লাশ গুম করেও দিতে পারে!কারণ যে দিন দুপুরে নিজ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালাইতে পারে সে খুব সহজেই রাতের আধারে তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাকে খুন করে লাশ গুম করে দিতে পারে!অথবা রাস্তাঘাটে ইচ্ছাকৃত এক্সিডেন্ট করায় হত্যা করতে পারে!সকলে আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।”

নিশাত বর্তমানেও রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে।

About ডেস্ক রিপোর্ট

আরোও দেখুন

নেটওয়ার্ক অব ইয়ং নীলফামারীয়ান-এর সভাপতি হলেন রাফি।।।

নেটওয়ার্ক অব ইয়ং নীলফামারীয়ানের নীলফামারী সদর শাখার সভাপতি হয়েছেন রাইহান রাফি এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল …

One comment

  1. I’ve been absent for a while, but now I remember why I used to love this site. Thank you, I’ll try and check back more often. How frequently you update your web site?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *