ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ‘পোড়া চা’য়ের ঘ্রাণে ছুটছে মানুষ ফয়জারের দোকানে

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ  রসমঞ্জুরী বিখ্যাত গাইবান্ধায় এবার নতুন করে আলোচনায় ‘পোড়া চা’। মুখরোচক এই  চায়ের গল্প এখন সবার মুখে মুখে। জনপ্রিয় ‘পোড়া চা’ এর ঘ্রাণে ছুটছে মানুষ ফয়জার মিয়ার দোকানে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর নামক স্থানে ফয়জারের স্টলে দেখা যায় চা পিপাসুদের ভিড়। সেখানে পোড়া চা এর গ্রাহক বেড়ে যাওয়া উন্মুক্ত জায়গায় বসানো হয়েছে কাঠ-বাঁশের টং বা মাঁচা। একাধিক লম্বা এই টংগে বসে মাটির কাপে চায়ের চুমুক দিচ্ছে শতাধিক নারী-পুরুষ।
স্থানীয়রা জানায়, রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়জার রহমান (৬০)। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩ যুগ ধরে চা বিক্রি করে সংসার চালান। এরই ধারবাহিকতায় এক বছর আগে নতুনভাবে শুরু করে পোড়া চা বানানোর কাজ। চুলায় তাওয়া বসিয়ে এর ওপর পোড়ানো হয় মাটির কাপ। সেই কাপে ঢালা হয় গরম চা। ঘন দুধ-চা পাতা আর মাটির পোড়া গন্ধে ভিন্ন স্বাদ তৈরি হয় চা। এই চা সকাল শুরু করে রাত ১১ টা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। প্রতি কাপ চা বিক্রি হয় ২৫ টাকা। যার নাম ‘পোড়া মালাই চা’। এর পাশাপাশি ‘পোড়া চা’ ১০-১৫ টাকা দামেও বিক্রি করেন ফয়জার। গাইবান্ধা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে এই চায়ের স্টলটি রাস্তার পাশে অবস্থিত। অন্যের জায়গা ভাড়াবিহীন দোকান চলছে। এখানে রয়েছে ৭ জন কর্মচারী।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে পোড়া চা পান করতে আসা একরামুল হক বলেন, লোকমুখে শুনে চা খেতে এসেছি। নতুন স্বাদের চা খেয়ে বেশ মজা পেলাম। ঘন দুধ-চা পাতা, পোড়া মাটির গন্ধ মিলেমিশে নতুন একটা স্বাদ পেলাম। গরম মাটির ভার টিস্যু পেপার বা রুমালে জড়িয়ে ধরে চায়ে চুমুক দিতে হয়। তবে ভিড়ের কারণে চা অর্ডার দিয়ে বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ফয়জার মিয়া জানান, ‘পোড়া চা’ বিক্রিতে প্রথমে তেমন গ্রাহক ছিল না। কিন্তু এখন মুখে মুখে চায়ের গল্প ছড়িয়ে পড়ায় গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রাম-শহর, বগুড়া, রংপুর থেকে লোকজন আসছেন চা খেতে। আধা মণ চা পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু এই চা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দৈনিক ৭ মণ দুধে এক মণ চিনি জাল দিয়ে ৪ মণ ঘন দুধ তৈরি করছি। পরে তাতে চা পাতা দেয়া হয়। এভাবে পোড়া চা বিক্রি করে সংসারে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছি।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু জানান, ফয়জার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে গরম চা বিক্রি করছে। তবে এখন শুরু করেছে পোড়া চা বিক্রি। এই চা অত্যান্ত মজাদার। তার এই ব্যবসায় গাইবান্ধা জেলাকে আরও পরিচিত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ইদানিং ফয়জার মিয়ার স্টলে পোড়া চা খেতে দিন-রাত মানুষের  ভিড় হচ্ছে। তাই সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গাইবান্ধার ‘পোড়া চা’য়ের ঘ্রাণে ছুটছে মানুষ ফয়জারের দোকানে

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ  রসমঞ্জুরী বিখ্যাত গাইবান্ধায় এবার নতুন করে আলোচনায় ‘পোড়া চা’। মুখরোচক এই  চায়ের গল্প এখন সবার মুখে মুখে। জনপ্রিয় ‘পোড়া চা’ এর ঘ্রাণে ছুটছে মানুষ ফয়জার মিয়ার দোকানে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের মধ্য রাধাকৃষ্ণপুর নামক স্থানে ফয়জারের স্টলে দেখা যায় চা পিপাসুদের ভিড়। সেখানে পোড়া চা এর গ্রাহক বেড়ে যাওয়া উন্মুক্ত জায়গায় বসানো হয়েছে কাঠ-বাঁশের টং বা মাঁচা। একাধিক লম্বা এই টংগে বসে মাটির কাপে চায়ের চুমুক দিচ্ছে শতাধিক নারী-পুরুষ।
স্থানীয়রা জানায়, রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়জার রহমান (৬০)। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩ যুগ ধরে চা বিক্রি করে সংসার চালান। এরই ধারবাহিকতায় এক বছর আগে নতুনভাবে শুরু করে পোড়া চা বানানোর কাজ। চুলায় তাওয়া বসিয়ে এর ওপর পোড়ানো হয় মাটির কাপ। সেই কাপে ঢালা হয় গরম চা। ঘন দুধ-চা পাতা আর মাটির পোড়া গন্ধে ভিন্ন স্বাদ তৈরি হয় চা। এই চা সকাল শুরু করে রাত ১১ টা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। প্রতি কাপ চা বিক্রি হয় ২৫ টাকা। যার নাম ‘পোড়া মালাই চা’। এর পাশাপাশি ‘পোড়া চা’ ১০-১৫ টাকা দামেও বিক্রি করেন ফয়জার। গাইবান্ধা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে এই চায়ের স্টলটি রাস্তার পাশে অবস্থিত। অন্যের জায়গা ভাড়াবিহীন দোকান চলছে। এখানে রয়েছে ৭ জন কর্মচারী।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে পোড়া চা পান করতে আসা একরামুল হক বলেন, লোকমুখে শুনে চা খেতে এসেছি। নতুন স্বাদের চা খেয়ে বেশ মজা পেলাম। ঘন দুধ-চা পাতা, পোড়া মাটির গন্ধ মিলেমিশে নতুন একটা স্বাদ পেলাম। গরম মাটির ভার টিস্যু পেপার বা রুমালে জড়িয়ে ধরে চায়ে চুমুক দিতে হয়। তবে ভিড়ের কারণে চা অর্ডার দিয়ে বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ফয়জার মিয়া জানান, ‘পোড়া চা’ বিক্রিতে প্রথমে তেমন গ্রাহক ছিল না। কিন্তু এখন মুখে মুখে চায়ের গল্প ছড়িয়ে পড়ায় গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রাম-শহর, বগুড়া, রংপুর থেকে লোকজন আসছেন চা খেতে। আধা মণ চা পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু এই চা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দৈনিক ৭ মণ দুধে এক মণ চিনি জাল দিয়ে ৪ মণ ঘন দুধ তৈরি করছি। পরে তাতে চা পাতা দেয়া হয়। এভাবে পোড়া চা বিক্রি করে সংসারে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছি।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু জানান, ফয়জার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে গরম চা বিক্রি করছে। তবে এখন শুরু করেছে পোড়া চা বিক্রি। এই চা অত্যান্ত মজাদার। তার এই ব্যবসায় গাইবান্ধা জেলাকে আরও পরিচিত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ইদানিং ফয়জার মিয়ার স্টলে পোড়া চা খেতে দিন-রাত মানুষের  ভিড় হচ্ছে। তাই সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।