ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় ৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে সুবিদ দাখিল মাদ্রাসা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রফিকুল ইসলাম লাভলু,পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগাছায় ১৫ জন শিক্ষক পড়াচ্ছেন মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থীকে। কাগজে-কলমে দেড়শ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন উপস্থিত হনমাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিল্য মাদ্রাসাটিতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও ৬ জন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায় । বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর  বই দেখে লিখছেন শিক্ষকের সামনে। আসলে কি পরীক্ষা হচ্ছে তা বোঝার  উপায় নেই। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারী মোট ১৭ জন থাকলেও উপস্থিতি থাকেন ৬ থেকে ৭ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে কোনো কমিটি না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসায় সুপার নিয়মিত না থাকায় শিক্ষক কর্মচারীগণ পাচ্ছে ফাঁকি দেয়া উপায়।সুপার মাদ্রাসায় আসেন না। এমন ঘটনার দেখা মিল্য রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায়। বিগত ৭ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে সুপার। ৩ যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার কার্যক্রম। সভাপতি না থাকায় সুপার আনোয়ারুল ইসলামের অনিয়ম আর দুনীতির কারণে ক্ষুদ্ধ শিক্ষকরাও। এ রকম একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকরা কিভাবে বেতন-ভাতা পায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী রেল ষ্টেশনের পূর্ব পাশে সুবিদ দাখিল মাদ্রাসাটিকে স্থানীয়রা এখন ভূতুরে বাড়ি নামে আখায়িত করেছেন। দুটি টিন সেড ঘর থাকলে নেই দরজা-জানালা। প্রসাব-পায়খানার জন্য একটি বার্থরুম দীর্ঘদিন থেকে জরাজীর্ণ।
এসময় ১০ম শ্রেণির একটি ক্লাস রুমে গিয়ে চোঁখে পরে একজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন শাহাদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক। অপর একটি ক্লাস রুমে শিক্ষার্থী মাত্র ৫ জন।
মাদ্রাসায় মাহমুদা বেগম নামে একজন কম্পিউটার শিক্ষক থাকলেও নেই কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটব। হাফেজি মাদ্রাসার পোষাক পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা শুধু পরীক্ষা দিতে আসি, আর আসি না। অপর কয়েকজন শিক্ষার্থী দুপুর ১২ টায় মাদ্রাসা মাঠে আসেন খালি গায়ে। তারা পরীক্ষা দিতে আসছেন, খাতা-কলম ছাড়া। এমন চিত্রে হতবাক সাংবাদিক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় এলাকাবাসী শরিফুল ইসলাম, লিমন তালুকদার, আব্দুল জলিল বলেন,এটি একটি আজব মাদ্রাসা। দীর্ঘদিন থেকে মাদ্রাসাটির সুপার আনোয়ারুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে বেতন-ভাতা স্বাক্ষর করেন। তার দুর্নীতির কারণে আজ এ মাদ্রাসাটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী শুন্যের কোটায়। দাতা এবং এলাকার মহৎ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্ত পরিচালনা কমিটি গঠন করলে এ অবস্থা হতো না। আমরা এলাকাবাসী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রেখে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি করছি।
মাদ্রাসার সহ-সুপার আবুল হোসাইন মো: ফকরুল ইসলাম, শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন, ইউনুছ আলী বসুনিয়া, হাসান আলী বলেন, সুপারের কারণে মাদ্রাসার এ অবস্থা। তিনি কারো কোন কথার গুরুত দেন না। কথা বললে নিয়মিত মাদ্রাসায় ও আসেন না। মাদ্রাসার সব কাগজপত্র তার কাছেই থাকে। মাদ্রাসায় কিছু নেই। আমরা শিক্ষকরা তার কাছে অসহায়।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপরের কাছে ফোনে জানতে চাইলে  আনোয়ারুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা আসলো কিনা জানিনা। আমি বাইরে আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া বলেন, বিল স্বাক্ষর করেন ইউএনও আমরা নির্ধিরাম সর্দ্দার। আমাদের করার কিছু নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুছা নাসের চৌধুরী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। আর ইউএনও মহোদয় আসলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পীরগাছায় ৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে সুবিদ দাখিল মাদ্রাসা

আপডেট সময় : ০১:১৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২
রফিকুল ইসলাম লাভলু,পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগাছায় ১৫ জন শিক্ষক পড়াচ্ছেন মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থীকে। কাগজে-কলমে দেড়শ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন উপস্থিত হনমাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিল্য মাদ্রাসাটিতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও ৬ জন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায় । বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর  বই দেখে লিখছেন শিক্ষকের সামনে। আসলে কি পরীক্ষা হচ্ছে তা বোঝার  উপায় নেই। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারী মোট ১৭ জন থাকলেও উপস্থিতি থাকেন ৬ থেকে ৭ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে কোনো কমিটি না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসায় সুপার নিয়মিত না থাকায় শিক্ষক কর্মচারীগণ পাচ্ছে ফাঁকি দেয়া উপায়।সুপার মাদ্রাসায় আসেন না। এমন ঘটনার দেখা মিল্য রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায়। বিগত ৭ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে সুপার। ৩ যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার কার্যক্রম। সভাপতি না থাকায় সুপার আনোয়ারুল ইসলামের অনিয়ম আর দুনীতির কারণে ক্ষুদ্ধ শিক্ষকরাও। এ রকম একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকরা কিভাবে বেতন-ভাতা পায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী রেল ষ্টেশনের পূর্ব পাশে সুবিদ দাখিল মাদ্রাসাটিকে স্থানীয়রা এখন ভূতুরে বাড়ি নামে আখায়িত করেছেন। দুটি টিন সেড ঘর থাকলে নেই দরজা-জানালা। প্রসাব-পায়খানার জন্য একটি বার্থরুম দীর্ঘদিন থেকে জরাজীর্ণ।
এসময় ১০ম শ্রেণির একটি ক্লাস রুমে গিয়ে চোঁখে পরে একজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন শাহাদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক। অপর একটি ক্লাস রুমে শিক্ষার্থী মাত্র ৫ জন।
মাদ্রাসায় মাহমুদা বেগম নামে একজন কম্পিউটার শিক্ষক থাকলেও নেই কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটব। হাফেজি মাদ্রাসার পোষাক পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা শুধু পরীক্ষা দিতে আসি, আর আসি না। অপর কয়েকজন শিক্ষার্থী দুপুর ১২ টায় মাদ্রাসা মাঠে আসেন খালি গায়ে। তারা পরীক্ষা দিতে আসছেন, খাতা-কলম ছাড়া। এমন চিত্রে হতবাক সাংবাদিক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় এলাকাবাসী শরিফুল ইসলাম, লিমন তালুকদার, আব্দুল জলিল বলেন,এটি একটি আজব মাদ্রাসা। দীর্ঘদিন থেকে মাদ্রাসাটির সুপার আনোয়ারুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে বেতন-ভাতা স্বাক্ষর করেন। তার দুর্নীতির কারণে আজ এ মাদ্রাসাটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী শুন্যের কোটায়। দাতা এবং এলাকার মহৎ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্ত পরিচালনা কমিটি গঠন করলে এ অবস্থা হতো না। আমরা এলাকাবাসী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রেখে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি করছি।
মাদ্রাসার সহ-সুপার আবুল হোসাইন মো: ফকরুল ইসলাম, শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন, ইউনুছ আলী বসুনিয়া, হাসান আলী বলেন, সুপারের কারণে মাদ্রাসার এ অবস্থা। তিনি কারো কোন কথার গুরুত দেন না। কথা বললে নিয়মিত মাদ্রাসায় ও আসেন না। মাদ্রাসার সব কাগজপত্র তার কাছেই থাকে। মাদ্রাসায় কিছু নেই। আমরা শিক্ষকরা তার কাছে অসহায়।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপরের কাছে ফোনে জানতে চাইলে  আনোয়ারুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা আসলো কিনা জানিনা। আমি বাইরে আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া বলেন, বিল স্বাক্ষর করেন ইউএনও আমরা নির্ধিরাম সর্দ্দার। আমাদের করার কিছু নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুছা নাসের চৌধুরী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। আর ইউএনও মহোদয় আসলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।