ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় জোর পূর্বক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ রফিকুল ইসলাম লাভলু, পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধিঃ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক অসহায় পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিলেন ভবেশ চন্দ্র নামের এক আনসার সদস্য। দীর্ঘ দিন থেকে বেড়িকেট দেওয়ার কারণে প্রায় ১ মাস থেকে বাড়ির বাইরে যেতে পাচ্ছেন না ওই ভূক্তভোগী পরিবার। ফলে জরুরী প্রয়োজনে কোথায়ও যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একধরণের বন্দিজীবন যাপন করছেন ৬ পরিবারের প্রায় ২৫ জন সদস্য। ১ মাস থেকে ৪ পরিবারের বন্দিজীবনের ঘটনায় ওই এলাকায় থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামে।

জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে ওই গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্রের ছেলে ভবেশ চন্দ্র (৫৫) তিনি পেশায় -৯ম আনসার ব্যাটালিয়ন (খাগড়াছড়ি) হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তার ছেলে মানিক চন্দ্র (২৭) ও পরিমল চন্দ্র (৩৫) সহ পারবারিক বসতভিটা জমিজমা সংক্রান্তের জের ধরে দ্বন্দ চলে আসছিল। এর ফলে অসহায় নিরোদ‌ চন্দ্রের (৬০) বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় বেড়িকেট দিয়ে রেখেছে তারা।

এ নিয়ে নিরোদ চন্দ্র পীরগাছা থানায় কয়েক দফা অভিযোগ করলেও পীরগাছা থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও সুষ্ঠু কোন ফল পায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

এমনকি যে জমি নিয়ে সমস্যা সে জমি নিরোদ চন্দ্রের পক্ষে আদালত রায় দিলেও তার জেঠাতো ২ ভাই সহ তার ছেলে আদালতকে অমান্য করে আবারো মিথ্যা মামলা দেন। নিরোদ‌ চন্দ্র জমি চাষ করতে গেলে তারা বাধা লাঠি ছোড়া নিয়ে বাধা প্রদান করেন এবং নিজের জমি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী নিরোদ চন্দ্র বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি জমি চাষ করতে গেলে তারা বাধা দেন এমনকি আমার বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখছে। আমরা বন্দিজীবন যাপন করছি। আমাদের হাট-বাজার, হাসপাতাল বা জরুরী কাজে বাড়ির বাহিরে যেতে পারছিনা। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় বিভিন্ন রকম গালিগালাজ, অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। তাই আমরা এখন নিরুপায়। এই ভূমিদস্যুর সঠিক বিচার চাই আমরা।

ভুক্তভোগী কান্তি ভূষণ সরকার জানান, তারা আমাদের বিভিন্নভাবে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণি করে আসছে। তারা জোর পূর্বক প্রভাব খাটিয়ে আমার জায়গায় ঘর নির্মান করছে। তিনি আরো বলেন, ভবেশ চন্দ্র পেশায় আনসার হওয়ায় তার দাপট খাটিয়ে আমাদের উপর এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জুলুম অত্যাচার করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এলাকাবাসীরা জানান, ভবেশ ও তার ছেলে মানিক, ছোট ভাই পরিমল তারা খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে। টাকার গরম দেখায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভবেশ চন্দ্রের সাথে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের দেখেই তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে এবং সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় বিভিন্ন গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি ও দেখে নেয়ার কথা বলেন।

অভিযুক্ত জোগেশ চন্দ্রের ছেলে মানিক মিয়া রেগে এসে সাংবাদিকদের বলেন, নিরোদের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। তাদের অভিযোগ সত্য নয়। আর সত্যতা পেলে যা পান করেন তোরা।

তার ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় বেড়িকেট দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, রোপনকৃত সুপারি গাছ আমাদের। আবাদি ফসল ক্ষতি হয় বিধায় আমি আমার জায়গায় বেড়িকেট দিয়েছি।

এব্যাপারে পীরগাছা থানার এএসআই আনোয়ার হোসেন জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়ভাবে এটা সমাধান করতে হবে। নিরোদ‌ চন্দ্রের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে সত্য কিন্তু সংরক্ষণ করতে হবে নিরোদ‌ চন্দ্রকেই।

এবিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দিনে অনেক অভিযোগ জমা হয়। বিষয়টি আমার জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পীরগাছায় জোর পূর্বক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ রফিকুল ইসলাম লাভলু, পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধিঃ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক অসহায় পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিলেন ভবেশ চন্দ্র নামের এক আনসার সদস্য। দীর্ঘ দিন থেকে বেড়িকেট দেওয়ার কারণে প্রায় ১ মাস থেকে বাড়ির বাইরে যেতে পাচ্ছেন না ওই ভূক্তভোগী পরিবার। ফলে জরুরী প্রয়োজনে কোথায়ও যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একধরণের বন্দিজীবন যাপন করছেন ৬ পরিবারের প্রায় ২৫ জন সদস্য। ১ মাস থেকে ৪ পরিবারের বন্দিজীবনের ঘটনায় ওই এলাকায় থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামে।

জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে ওই গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্রের ছেলে ভবেশ চন্দ্র (৫৫) তিনি পেশায় -৯ম আনসার ব্যাটালিয়ন (খাগড়াছড়ি) হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তার ছেলে মানিক চন্দ্র (২৭) ও পরিমল চন্দ্র (৩৫) সহ পারবারিক বসতভিটা জমিজমা সংক্রান্তের জের ধরে দ্বন্দ চলে আসছিল। এর ফলে অসহায় নিরোদ‌ চন্দ্রের (৬০) বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় বেড়িকেট দিয়ে রেখেছে তারা।

এ নিয়ে নিরোদ চন্দ্র পীরগাছা থানায় কয়েক দফা অভিযোগ করলেও পীরগাছা থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও সুষ্ঠু কোন ফল পায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

এমনকি যে জমি নিয়ে সমস্যা সে জমি নিরোদ চন্দ্রের পক্ষে আদালত রায় দিলেও তার জেঠাতো ২ ভাই সহ তার ছেলে আদালতকে অমান্য করে আবারো মিথ্যা মামলা দেন। নিরোদ‌ চন্দ্র জমি চাষ করতে গেলে তারা বাধা লাঠি ছোড়া নিয়ে বাধা প্রদান করেন এবং নিজের জমি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী নিরোদ চন্দ্র বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি জমি চাষ করতে গেলে তারা বাধা দেন এমনকি আমার বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখছে। আমরা বন্দিজীবন যাপন করছি। আমাদের হাট-বাজার, হাসপাতাল বা জরুরী কাজে বাড়ির বাহিরে যেতে পারছিনা। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় বিভিন্ন রকম গালিগালাজ, অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। তাই আমরা এখন নিরুপায়। এই ভূমিদস্যুর সঠিক বিচার চাই আমরা।

ভুক্তভোগী কান্তি ভূষণ সরকার জানান, তারা আমাদের বিভিন্নভাবে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণি করে আসছে। তারা জোর পূর্বক প্রভাব খাটিয়ে আমার জায়গায় ঘর নির্মান করছে। তিনি আরো বলেন, ভবেশ চন্দ্র পেশায় আনসার হওয়ায় তার দাপট খাটিয়ে আমাদের উপর এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জুলুম অত্যাচার করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এলাকাবাসীরা জানান, ভবেশ ও তার ছেলে মানিক, ছোট ভাই পরিমল তারা খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে। টাকার গরম দেখায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভবেশ চন্দ্রের সাথে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের দেখেই তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে এবং সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় বিভিন্ন গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি ও দেখে নেয়ার কথা বলেন।

অভিযুক্ত জোগেশ চন্দ্রের ছেলে মানিক মিয়া রেগে এসে সাংবাদিকদের বলেন, নিরোদের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। তাদের অভিযোগ সত্য নয়। আর সত্যতা পেলে যা পান করেন তোরা।

তার ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় বেড়িকেট দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, রোপনকৃত সুপারি গাছ আমাদের। আবাদি ফসল ক্ষতি হয় বিধায় আমি আমার জায়গায় বেড়িকেট দিয়েছি।

এব্যাপারে পীরগাছা থানার এএসআই আনোয়ার হোসেন জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়ভাবে এটা সমাধান করতে হবে। নিরোদ‌ চন্দ্রের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে সত্য কিন্তু সংরক্ষণ করতে হবে নিরোদ‌ চন্দ্রকেই।

এবিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দিনে অনেক অভিযোগ জমা হয়। বিষয়টি আমার জানা নেই।