ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় নটাবাড়ী দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রামবাসি।

 

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের নটাবাড়ী দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির নথি পাঠ করে শোনান গ্রামবাসির পক্ষে ইমরান আলী।

 

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, নটাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। তিনি বারবার তার নিজের পরিবার ও শ্বশুর পরিবারের সদস্যেদের দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে এসব অনিয়ম করছেন তিনি। স¤প্রতি কোন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। এতে তার শশুর শামছুল আলমকে সভাপতি নির্বাচন করেন। এর আগের এডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন তার চাচা শশুর শহিদুল ইসলাম। গোপন এই কমিটির মাধ্যমে কিছুদিন আগে ‘আয়া’ পদে নিয়োগ পান সমন্ধীর স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং পরিছন্নতাকর্মী তার জেঠাতো ভাই শাহীন আলম। ১৯৯৯ সালে স্কুলটিতে এক সঙ্গে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলাম। নিয়োগকৃত অন্য সকলের বেতন-ভাতা হলেও নুরুল ইসলামের বিল করা হয়নি। এটি একটি পরিবার ভিত্তিক স্কুল। প্রধান শিক্ষকের নিজের পরিবারের লোকজন দিয়ে কমিটি ও শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে চলছে সব কার্যক্রম। হয়না কোন সরকারি অনুষ্ঠান। নিজের ইচ্ছেমতো চালায় স্কুলটি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলামের স্ত্রী মমিনা বেগম বলেন, সবার বিল হলেও ২২ বছরেও আমার স্বামীর বিল হয়নি।

প্রধান শিক্ষক সব কাগজপত্র লুকিয়ে রেখে বলছেন স্কুলে তার কোন কাগজপত্র নেই। আমাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক। আমি প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিচার সরকারের কাছে দাবি করছি।

প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। যাদেরকে ম্যানেজিং কমিটিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা আমার আত্মীয় নন।

এ ব্যাপারে তার জেঠো‌ শশুর মোঃ আব্দুল হক‌ মাওলানাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কথা বললে তিনি বলেন আমি এই কমিটির সম্পর্কে কিছু জানি না এবং আমাকে কমিটিতে সদস্য রাখছে সেটাও আমি জানিনা আর জাহাঙ্গীর কবির আমার ভাতিজী‌ জামাই । আব্দুল হক মাওলানা জাহাঙ্গীর কবির কে জামাই স্বীকৃতি দিলেও জাহাঙ্গীর কবির তার স্বীকার করতে অনিচ্ছুক।

এদিকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করতে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস ছালামকে। তিনি জানান, আজ ইউএনও মহোদয় এবিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পীরগাছায় প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় নটাবাড়ী দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রামবাসি।

 

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের নটাবাড়ী দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির নথি পাঠ করে শোনান গ্রামবাসির পক্ষে ইমরান আলী।

 

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, নটাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। তিনি বারবার তার নিজের পরিবার ও শ্বশুর পরিবারের সদস্যেদের দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে এসব অনিয়ম করছেন তিনি। স¤প্রতি কোন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। এতে তার শশুর শামছুল আলমকে সভাপতি নির্বাচন করেন। এর আগের এডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন তার চাচা শশুর শহিদুল ইসলাম। গোপন এই কমিটির মাধ্যমে কিছুদিন আগে ‘আয়া’ পদে নিয়োগ পান সমন্ধীর স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং পরিছন্নতাকর্মী তার জেঠাতো ভাই শাহীন আলম। ১৯৯৯ সালে স্কুলটিতে এক সঙ্গে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলাম। নিয়োগকৃত অন্য সকলের বেতন-ভাতা হলেও নুরুল ইসলামের বিল করা হয়নি। এটি একটি পরিবার ভিত্তিক স্কুল। প্রধান শিক্ষকের নিজের পরিবারের লোকজন দিয়ে কমিটি ও শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে চলছে সব কার্যক্রম। হয়না কোন সরকারি অনুষ্ঠান। নিজের ইচ্ছেমতো চালায় স্কুলটি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলামের স্ত্রী মমিনা বেগম বলেন, সবার বিল হলেও ২২ বছরেও আমার স্বামীর বিল হয়নি।

প্রধান শিক্ষক সব কাগজপত্র লুকিয়ে রেখে বলছেন স্কুলে তার কোন কাগজপত্র নেই। আমাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক। আমি প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিচার সরকারের কাছে দাবি করছি।

প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। যাদেরকে ম্যানেজিং কমিটিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা আমার আত্মীয় নন।

এ ব্যাপারে তার জেঠো‌ শশুর মোঃ আব্দুল হক‌ মাওলানাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কথা বললে তিনি বলেন আমি এই কমিটির সম্পর্কে কিছু জানি না এবং আমাকে কমিটিতে সদস্য রাখছে সেটাও আমি জানিনা আর জাহাঙ্গীর কবির আমার ভাতিজী‌ জামাই । আব্দুল হক মাওলানা জাহাঙ্গীর কবির কে জামাই স্বীকৃতি দিলেও জাহাঙ্গীর কবির তার স্বীকার করতে অনিচ্ছুক।

এদিকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করতে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস ছালামকে। তিনি জানান, আজ ইউএনও মহোদয় এবিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেয়া হবে।