ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে বিয়ে দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রমিকার অনশন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২ ৪৯৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুুন্দরগঞ্জে বিয়ে দাবিতে প্রমিকের বাড়ীতে ৩ দিন থেকে অনশন করছে এক তরুণী। শুক্রবার সকালে এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে । গত বুধবার ভোর থেকে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচীয়া মীরগঞ্জ গ্রামের প্রেমিক রিশাত মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন তরুণী।

রিশাত মিয়া (২৫) ওই গ্রামের আতোয়ার মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী তরুণী কুড়িগ্রাম জেলার নাকেরশ্বরী রামখানা উপজেলার রাজমাতা সিপাইটারী গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মরিয়ম আক্তার। ঘটনার পর প্রেমিক শৈশব বালার পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি লুকিয়ে রেখেছে।
গত সাত মাস পূর্বে ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে ভাড়া বাসায় পরিচয় হয় দুজনের। পরিচয়ের একপর্যায় থেকে কথা এরপর থেকেই একে অপরের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই মধ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ মাস এক ঘরে থাকেন তারা দুজন। একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি বাড়ীর মালিক জানন্তে পেরে বিয়ের কথা বলে তাদের বাড়ী খবর দেন। পরে সেখানকার স্থানীয়রা দুজনে আটকে করে কাশিমপুর থানায় অবগত করেন। পরে প্রেমিক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার স্থানীয় কয়েকজনের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে অনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করার কথা বলে স্থানীদের জিম্মায় নিজ বাড়ীতে চলে আসে। এরপর বাড়ীতে এসে মোবাইলে প্রেমিকাকে এই তরুণীকে তার বাড়ীতে আসতে বলেন। তখন এই তরুণী ভাড়া বাড়ীর মালিক কে অবগত করলে বাড়ীর মালিক কাশিমপুর থানাকে অবগত করে জিম্মাদার দুইজনকে তরুণীর সাথে করে প্রেমিকের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী তরুনী বলেন, পরিবারের অভাবের তারনায় বাড়ী থেকে ঢাকায় যান কাজের খোঁজে সেখানে গিয়ে ভাড়াবাড়ীতে থেকে গার্মেন্টসে কাজ করেন। গত সাত মাস আগে ওই বাড়ীতে বাসা ভাড়া নেন রিশাত। তার সাথে সেখানে আমার পরিচয় হয়। তারপর থেকে আমাদের মাঝে কথা বলা শুরু হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে রাতে দুজনে এক ঘরে থাকতে শুরু হয়। এভাবে ৩ মাস গেলে স্থানীয়রা জানন্তে পারলে আমাদের আটক করে বিয়ে করার কথা বলেন। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে তার বাড়ীতে আসতে বলেন আমি তার বাড়ীতে আসলে তার পরিবারের লোকজন তাকে লুকিয়ে রাখেন। বিয়ের দিবে ছেলে কোথায় তা অস্বীকার করেন। আবার ৩ দিন থেকে ছেলে আসবে সকালে একবার বিকালে আবার বলে রাতে আসলে বিয়ে দিবো বলেন ছেলের বাবা এভাবে সময় পার করছেন। আজ বলছে চেয়ারম্যান সন্ধ্যায় আসবে।
স্থানীয় হুমাইন ও সোহেল রানা জানান, আতোয়ার মিয়ার বাড়ীতে গত ৩ দিন থেকে এক তরুণী বিয়ে দাবিতে আসলে বিয়ে দিবে বলে ছেলে বাবা তরুণীকে বাড়ীতে রেখে বিভিন্ন তালবাহনা করছেন। এনিয়ে গ্রামে চাঞ্চল্য অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এবিষয়ে ইউপি সদস্য আমিনুল বসুনিয়া জানান, এই মেয়ের সাথে রিশাতের বিয়ে হওয়ার কথা চলছে । এ বিষয়ে মেয়ের বাড়িতে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে বিষয়টি সমাধান হবে।

তারাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, ঘটনা আমি শুনছি আজ সন্ধ্যায় ছেলের বাড়ীর বসে আলোচনা করলে সমাধান হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, এ নিয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুন্দরগঞ্জে বিয়ে দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রমিকার অনশন

আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২

সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুুন্দরগঞ্জে বিয়ে দাবিতে প্রমিকের বাড়ীতে ৩ দিন থেকে অনশন করছে এক তরুণী। শুক্রবার সকালে এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে । গত বুধবার ভোর থেকে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচীয়া মীরগঞ্জ গ্রামের প্রেমিক রিশাত মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন তরুণী।

রিশাত মিয়া (২৫) ওই গ্রামের আতোয়ার মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী তরুণী কুড়িগ্রাম জেলার নাকেরশ্বরী রামখানা উপজেলার রাজমাতা সিপাইটারী গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মরিয়ম আক্তার। ঘটনার পর প্রেমিক শৈশব বালার পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি লুকিয়ে রেখেছে।
গত সাত মাস পূর্বে ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে ভাড়া বাসায় পরিচয় হয় দুজনের। পরিচয়ের একপর্যায় থেকে কথা এরপর থেকেই একে অপরের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই মধ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ মাস এক ঘরে থাকেন তারা দুজন। একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি বাড়ীর মালিক জানন্তে পেরে বিয়ের কথা বলে তাদের বাড়ী খবর দেন। পরে সেখানকার স্থানীয়রা দুজনে আটকে করে কাশিমপুর থানায় অবগত করেন। পরে প্রেমিক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার স্থানীয় কয়েকজনের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে অনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করার কথা বলে স্থানীদের জিম্মায় নিজ বাড়ীতে চলে আসে। এরপর বাড়ীতে এসে মোবাইলে প্রেমিকাকে এই তরুণীকে তার বাড়ীতে আসতে বলেন। তখন এই তরুণী ভাড়া বাড়ীর মালিক কে অবগত করলে বাড়ীর মালিক কাশিমপুর থানাকে অবগত করে জিম্মাদার দুইজনকে তরুণীর সাথে করে প্রেমিকের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী তরুনী বলেন, পরিবারের অভাবের তারনায় বাড়ী থেকে ঢাকায় যান কাজের খোঁজে সেখানে গিয়ে ভাড়াবাড়ীতে থেকে গার্মেন্টসে কাজ করেন। গত সাত মাস আগে ওই বাড়ীতে বাসা ভাড়া নেন রিশাত। তার সাথে সেখানে আমার পরিচয় হয়। তারপর থেকে আমাদের মাঝে কথা বলা শুরু হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে রাতে দুজনে এক ঘরে থাকতে শুরু হয়। এভাবে ৩ মাস গেলে স্থানীয়রা জানন্তে পারলে আমাদের আটক করে বিয়ে করার কথা বলেন। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে তার বাড়ীতে আসতে বলেন আমি তার বাড়ীতে আসলে তার পরিবারের লোকজন তাকে লুকিয়ে রাখেন। বিয়ের দিবে ছেলে কোথায় তা অস্বীকার করেন। আবার ৩ দিন থেকে ছেলে আসবে সকালে একবার বিকালে আবার বলে রাতে আসলে বিয়ে দিবো বলেন ছেলের বাবা এভাবে সময় পার করছেন। আজ বলছে চেয়ারম্যান সন্ধ্যায় আসবে।
স্থানীয় হুমাইন ও সোহেল রানা জানান, আতোয়ার মিয়ার বাড়ীতে গত ৩ দিন থেকে এক তরুণী বিয়ে দাবিতে আসলে বিয়ে দিবে বলে ছেলে বাবা তরুণীকে বাড়ীতে রেখে বিভিন্ন তালবাহনা করছেন। এনিয়ে গ্রামে চাঞ্চল্য অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এবিষয়ে ইউপি সদস্য আমিনুল বসুনিয়া জানান, এই মেয়ের সাথে রিশাতের বিয়ে হওয়ার কথা চলছে । এ বিষয়ে মেয়ের বাড়িতে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে বিষয়টি সমাধান হবে।

তারাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, ঘটনা আমি শুনছি আজ সন্ধ্যায় ছেলের বাড়ীর বসে আলোচনা করলে সমাধান হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, এ নিয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।