ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শরতের শুভ্রতা ছড়াচ্ছে সুন্দরগঞ্জে কাশফুল

সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরে প্রায় ৫ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে শরতের শুভ্র আকাশের নিচে দুলে ওঠা সাদা কাশবনে কাশফুল সংগহে মেতে উঠেছে দুরন্ত কিশোর কিশোরী ও শিশুরা।

উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চরখোদ্দ গ্রামে দেশে সব চেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত একটি চবে কাশফুলের দুলে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য চোঁখ জুড়ায় দেখতে আশা দর্শনার্থীদের। বিশাল এই বালুচরের মাঠ জুড়ে ছেয়ে গেছে কাশবন। সাদা রঙের কাশফুলে ভরে উঠেছে কাশবন। দূর থেকে দেখে মনে হবে বিশাল আকৃতির সাদা বিছানা চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। যা উপজেলার আর কোথাও এতো বড় কাশবন খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাশফুল প্রাচীনকাল থেকেই এ দেশে শুভ্রতা ছড়িয়ে আসছে। কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। এ উদ্ভিদটি উচ্চতায় সাধারণত ৩ থেকে ৪ মিটার পযন্ত লম্বা হয়। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাশবনে কাশফুলে মাঠের মধ্যে দুলে দিচ্ছে দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় শুধু কাশবন আর কাশফুল। গ্রাম কিংবা শহরের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তির মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছে দিগন্ত জোড়া কাশফুল। সেই কাশফুলের রাজ্যে গাঁ ভাসাতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছে শিশু কিশোর সহ প্রকৃতি প্রেমিকরা। ছবি আর সেলফি তুলে স্মৃতি হিসেবে ক্যামেরাবন্দি করছে নিজেদের। বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি টিমসহ বন্ধু বান্ধাব ও পরিবার নিয়ে অনেকেই ঘুড়তে আসতে দেখা যায়, তাদের মুখে গল্প শুনে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে জেনে প্রতিদিনই অনেক মানুষ ঘুরতে বা দেখতে যাচ্ছেন এই কাশফুল। ঘুরতে গিয়ে প্রত্যেকেই যেন নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের মাঝে।

ঘুরতে আসা প্রবীণ দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, কালের পরিক্রমা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় পীরগাছা থেকে সুন্দরগঞ্জে হারাতে বসেছে শরতের কাশফুল। একটা সময় সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কাশবনের কাশফুলগুলো দোল খেতো মৃদু বাতাসে তবে কাশখর দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা চালাতো চরবাসীরা এই খর ক্রয় করে ক্রেতারা খরের ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতো এছাড়া এ কাশবন চাষে বাড়তি পরিচর্যা ও সার প্রয়োগের প্রয়োজনও নেই। আপনা থেকে অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কাশবনের ব্যবহার বহুবিধ। চারাগাছ একটু বড় হলেই এর কিছু অংশ কেটে গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাশ দিয়ে গ্রামের বধূরা ঝাটা, ডালি, দোন তৈরি করে আর কৃষকরা ঘরের ছাউনি হিসেবেও ব্যবহার করে থাকেন। এখন সুন্দরগঞ্জের গ্রাম-গঞ্জে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা যে কয়টি কাশফুল চোখে পড়ে সেগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে মৌসুমি ফসলের ক্ষেত।